দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

পঞ্চগড়ে শীতের দাপট যেন বেড়েই চলেছে। আবারও তাপমাত্রা কমে গেছে। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রবিবার ছিল ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায় দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে বিরাজ করছে।

উত্তর হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাস ও কুয়াশায় ঢাকা গোটা পঞ্চগড় জেলা। কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও দিনের তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। ফলে কনকনে শীতের অনুভূতি কমেনি। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলে শীতের প্রকোপ। দিনের বেলায় হেডলাইটের আলোতে গাড়ি চলতে দেখা গেছে। শীতার্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অসহনীয় এই অব্যাহত শীতে শিশু এবং বয়স্ক মানুষ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।

শীত ও শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও ভর্তির সংখ্যা কম। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মাত্র ১০ জন রোগী ভর্তি আছে। এ ছাড়া শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, গরম কাপড় পরিধান ও টাটকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন।

এদিকে, তীব্র শীতে কিছু কিছু এলাকায় বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অবশ্য কৃষি বিভাগ বীজতলা পলিথিনে ঢেকে দিতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে দিনের তুলনায় রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।