রবের পার্টিতে ভাঙন, আলাদা কনভেনশন ডেকেছেন রতন

১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জেএসডি) ভাঙন ধরেছে। এরইমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন কাউন্সিল প্রত্যাখ্যান করে কনভেনশন ডেকেছেন। আগামী ১১ জানুয়ারি রাজধানীর যেকোনও একটি মিলনায়তনে এ সম্মেলন আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য জানান আবদুল মালেক রতন।

তিনি জানান, মূলত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক—উভয় কারণে জেএসডিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র না থাকায় কাউন্সিলের কোনও বৈধতা থাকে না। আমরা বলেছিলাম, আগে গঠনতন্ত্র তৈরি হোক, এরপর কাউন্সিল করা যাবে। কিন্তু রব ভাই তা মানলেন না। ফলে আমরা নতুন করে আগে কনভেনশন করবো। সেখানে গঠনতন্ত্র, মেনিফেস্টো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু চূড়ান্ত করে কাউন্সিল করবো। আগের গঠনতন্ত্রকে অনুমোদন দিয়েও কাউন্সিল করা যেতো। কিন্তু কোনোটিই করতে রাজি নন রব ভাই। ফলে ২৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিল অবৈধ।’

উল্লেখ্য, এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিবৃতি দেওয়া হয় আবদুল মালেক রতনসহ কয়েকজনের পক্ষ থেকে।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিল/সম্মেলন-২০১৯ প্রস্তুতি পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মীর আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জেএসডি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। গুটিকয়েক ব্যক্তি ও দল দলের কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। আশা করছি, অবিলম্বে তারা পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে দলের মূলধারার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন। তা না-হলে শিগগিরই দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতান্ত্রিক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আবদুল মালেক রতন দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগ সদস্য মনে করেন রব ভাইয়ের কাউন্সিল অবৈধ।

আ স ম আবদুর রবের সঙ্গে দ্বিমতের রাজনৈতিক কারণ সম্পর্কে আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই ফ্রন্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেলো, নির্বাচনের পর ফ্রন্ট আরও জোরদার হচ্ছে। আঙুলের রক্ত দিয়ে শপথ লেখা হচ্ছে। ঐক্যের মধ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আমরা মনে করি, দুটো বড় দলই একটি আপদ ও আরেকটি বিপদ।’ ঐক্য হতে হবে পরিপূর্ণভাবে এজেন্ডাভিত্তিক। তাহলে সেই ঐক্যে থাকবো বলে জানান রতন।

জেএসডির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, এরইমধ্যে আবদুল মালেক রতন ও কাউন্সিলবিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন রব। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী তানিয়াও কাজ করছেন।

আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে আ স ম আবদুর রবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।